Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
ধর্ম

ধর্মীয় বিষয়ে এআইয়ের উত্তর কতটা নির্ভরযোগ্য?

ধর্মীয় কোনো বিষয়ে জানতে একসময় বইপত্র ঘাঁটতে হতো, পড়তে হতো বিভিন্ন নিবন্ধ। অনেক ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেমের কাছেও যেতে হতো। এখন ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় বদলে গেছে তথ্য জানার সেই পদ্ধতি। গুগলে খোঁজার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কাছ থেকেও মুহূর্তেই পাওয়া যাচ্ছে নানা প্রশ্নের উত্তর।

কোরআনের আয়াতের অর্থ, তাফসির কিংবা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের বিধান জানতে অনেকেই এখন এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে সাজানো ব্যাখ্যা, সঙ্গে কোরআনের আয়াত, হাদিস ও ইসলামী আইনশাস্ত্রের বিভিন্ন গ্রন্থের সূত্র। এত তথ্য ও সূত্র সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ধর্মীয় বিষয়ে জানার ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর কতটা নির্ভর করা যায়?

তথ্য পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে এআইয়ের আবির্ভাব নতুন হলেও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নতুন নয়। ইসলামে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি নীতি হলো তাবাইয়্যুন। এর অর্থ, কোনো সংবাদ বা তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। তথ্য জানার মাধ্যম বদলালেও এই নীতির গুরুত্ব কমেনি।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে দেখো, যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ৬)

এআইয়ের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর উপস্থাপন করতে পারে। ধর্মীয় কোনো প্রশ্নের উত্তরে যুক্তি সাজিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি কোরআনের আয়াত ও হাদিসের উদ্ধৃতিও তুলে ধরতে পারে। উত্তরটি যত গোছানো ও তথ্যসমৃদ্ধ হয়, সেটিকে নির্ভরযোগ্য মনে হওয়ার প্রবণতাও তত বাড়ে।

কিন্তু কোনো উত্তর বিশ্বাসযোগ্য শোনালেই সেটি সঠিক বা পূর্ণাঙ্গ হয়ে যায় না। এআই কোরআনের আয়াত কিংবা হাদিস ভুলভাবে উদ্ধৃত করতে পারে। কখনো এমন উদ্ধৃতিও দিতে পারে, যার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। আবার বাস্তবে অস্তিত্বহীন কোনো গ্রন্থ বা সূত্রের উল্লেখও করতে পারে। এআইয়ের এ ধরনের ভুল তথ্য তৈরির প্রবণতাকে বলা হয় ‘হ্যালুসিনেশন’।

২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ইসলামী আইনবিষয়ক ৮০টি প্রশ্নের ভিত্তিতে এআই-চালিত পাঁচটি ইসলামি চ্যাটবটের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। গবেষণায় কোরআনের আয়াত ও হাদিসের ভুল সূত্র উল্লেখ, ধর্মীয় বিধানকে অতিরিক্ত সরল করে উপস্থাপন এবং একই বিষয়ে অসংগতিপূর্ণ উত্তর দেওয়ার মতো সমস্যা পাওয়া যায়।

এ কারণে এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই না করে গ্রহণ করা উচিত নয়। তাবাইয়্যুনের শিক্ষা হলো, তথ্য পাওয়ার পর নিজের বিচারবুদ্ধি কাজে লাগানো এবং তার সত্যতা যাচাই করা। তথ্য খুঁজে পাওয়া ও বুঝতে এআই সহায়তা করতে পারে, কিন্তু তার উত্তর কতটা সঠিক, তা বিবেচনা করার দায়িত্ব এড়ানো যায় না।

এই সতর্কতা শুধু এআইয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, টিকটকের ভিডিও কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া বার্তাও বহুবার প্রচারিত হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য হয়ে যায় না। একই তথ্য বারবার চোখে পড়া বা অনেক মানুষ সেটি শেয়ার করা তথ্য যাচাইয়ের বিকল্প হতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর, এগুলোর প্রতিটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত ৩৬)

দ্রুত উত্তর পাওয়াই কি যথেষ্ট?

এআই জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এর কাছ থেকে দ্রুত উত্তর পাওয়া যায়। প্রশ্ন করার পরপরই উত্তর সামনে আসে। অপেক্ষা করতে হয় না, একাধিক বই বা ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য খুঁজতে হয় না। এই সুবিধা নিঃসন্দেহে তথ্য জানার প্রক্রিয়াকে সহজ করে।

তবে তাৎক্ষণিক উত্তর পাওয়ার অভ্যাস আমাদের প্রত্যাশাকেও প্রভাবিত করতে পারে। আমরা হয়তো ভাবতে শুরু করি, প্রতিটি প্রশ্নেরই সহজ ও দ্রুত উত্তর থাকা উচিত। অথচ ধর্মীয় জ্ঞানের সব প্রশ্নের উত্তর এতটা সরল নয়। কোনো বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে একাধিক সূত্র, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং প্রশ্নকারীর পরিস্থিতি বিবেচনা করার প্রয়োজন হতে পারে।

এর কারণ শুধু তথ্য যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলামী জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে জ্ঞানকে কেবল তথ্য সংগ্রহের বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। এর সঙ্গে নিয়ত, নৈতিক দায়িত্ব ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহির বিষয়ও জড়িত।

একই প্রশ্নে পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন উত্তর

এ প্রসঙ্গে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-কে ঘিরে প্রচলিত একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়। বর্ণনা অনুযায়ী, দুজন ব্যক্তি আলাদাভাবে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কোনো মুমিনকে হত্যা করলে হত্যাকারীর ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ আছে কি না। তিনি তাঁদের ভিন্ন উত্তর দিয়েছিলেন।

যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছেন বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁকে তিনি ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ওই ব্যক্তিকে হত্যার মতো অপরাধ থেকে বিরত রাখা। অন্যদিকে, যিনি ইতিমধ্যে কাউকে হত্যা করেছেন এবং তওবা করতে চাইছিলেন, তাঁকে তিনি ক্ষমার সুযোগ রয়েছে বলে জানান। এর মাধ্যমে তাঁকে তওবার পথে উৎসাহিত করা হয়েছিল।

ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্নকারীর পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শুধু প্রশ্নের শব্দ বিশ্লেষণ করলেই সব সময় যথাযথ উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। একই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় প্রশ্নকারী কে, তিনি কোন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন করছেন এবং উ

সম্পর্কিত খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button